প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ও প্রাক্তন হেড কোচ সঞ্জয় বাঙ্গারের সন্তান অনয়া বাঙ্গারের জীবনকাহিনি আজ শুধু এক ব্যক্তিগত রূপান্তরের গল্প নয়, বরং মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মপরিচয় ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার এক শক্তিশালী বার্তা। বাইরে থেকে ঝলমলে ক্রিকেট-পরিবেশে বড় হওয়া এই জীবনের আড়ালে লুকিয়ে ছিল দীর্ঘদিনের মানসিক টানাপোড়েন ও এক গভীর আত্মসংগ্রাম।
জন্মসূত্রে পুরুষ হলেও শৈশব থেকেই নিজের লিঙ্গপরিচয় নিয়ে দ্বন্দ্বে ভুগছিলেন অনয়া। সমাজ ও পারিবারিক প্রত্যাশার চাপে বহু বছর নিজের অনুভূতিকে আড়াল করে রাখতে হয় তাঁকে। বিশেষ করে বাবা সঞ্জয় বাঙ্গারের স্বপ্ন ছিল, সন্তানকে ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তোলা এবং দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করানো। সেই স্বপ্নের ভার অনয়ার নিজের পরিচয়ের লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলেছিল।
তবুও থেমে যাননি অনয়া। নিয়মিত থেরাপি ও আত্মঅন্বেষণের মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে নিজের ভিতরের শক্তিকে খুঁজে পান। কিছু ক্রিকেটারের অশালীন আচরণ তাঁকে ব্যথিত করলেও, এবার তিনি চুপ করে থাকেননি। নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে এনে তিনি সমাজে এক নতুন আলোচনার সূচনা করেন। সেই খোলামেলা স্বীকারোক্তি ধীরে ধীরে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায় এবং পরিবারের মনোভাবেও পরিবর্তন আসে।
আজ অনয়া প্রস্তুত জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের জন্য। থাইল্যান্ডে ভ্যাজিনোপ্লাস্টি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর লিঙ্গপরিচয়ের যাত্রা এক নতুন দিশা পেতে চলেছে। নিজের সঙ্গে লড়াই করেছি, থেরাপি নিয়েছি। আজ আমি শান্ত।”
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে পারিবারিক সম্পর্কে। বাবা সঞ্জয় বাঙ্গার এবার তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং চিকিৎসার দায়িত্বও নিয়েছেন।
অস্ত্রোপচারের পর অন্তত ছয় মাস ক্রিকেট থেকে দূরে থাকতে হবে অনয়াকে। তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। আইসিসির বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, যাঁরা পুরুষ হিসেবে বয়ঃসন্ধি পার করেছেন, তাঁরা মহিলাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিতে পারবেন না।

