নকশালবাড়ি: বরফে মোড়া পাহাড়ি পথ, নেটওয়ার্কহীন পাঁচ দিন, আর সামনে হিমালয়ের অপার সৌন্দর্য। এমনই এক রোমাঞ্চকর ও স্মরণীয় অভিযানের সাক্ষী হলেন নকশালবাড়ি ও পার্শ্ববর্তী এলাকার দশজন তরুণ। ২১ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত তাঁরা পাড়ি দেন হিমালয়ের দুর্গম ট্রেকিং রুটে, যার গন্তব্য ছিল বহু ট্রেকপ্রেমীর স্বপ্নের ঠিকানা ফালুট টপ।
এই অভিযানে অংশ নেন নকশালবাড়ির দেব চৌধুরী, টিপু দে, কৌশিক দাস, রজত চৌধুরী ও সঞ্জয় সরকার। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন হাটিঘিষার আকাশ মন্ডল, তমাল রায় ও রাজেন্দ্র ভৌমিক, পানিট্যাঙ্কির রাহুল সিংহ এবং শিলিগুড়ির গোবিন্দ সরকার।
তাঁদের যাত্রা শুরু হয় বিকে ভঞ্জন থেকে। সেখান থেকে প্রথমে সান্দাকফু পৌঁছে রাত্রিযাপনের পর পরদিন তাঁরা এগিয়ে যান ঠাকুম ভ্যালি হয়ে ফালুট টপে। ফেরার পথে তাঁরা নামেন গোর্খে হয়ে রামাম। গোটা পথই ছিল বরফে ঢাকা, আর ফালুট টপে কোথাও কোথাও প্রায় দুই ফুট পর্যন্ত জমে থাকা তুষারের মধ্য দিয়েই এগোতে হয়েছে দলটিকে।
এই পাঁচ দিন তাঁরা ছিলেন সম্পূর্ণ মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে। তবে প্রযুক্তি থেকে এই দূরত্বই যেন তাঁদের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে প্রকৃতির। নির্জন পাহাড়ি পথে হাঁটতে হাঁটতে তাঁরা উপভোগ করেছেন হিমালয়ের এক অনন্য রূপ, যা শহুরে ব্যস্ততার জীবনে সচরাচর দেখা যায় না।
অভিযানের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল ফালুট ও সান্দাকফুর উচ্চতা থেকে পরিষ্কার আকাশে বিশ্বের চারটি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ — এভারেস্ট, কাঞ্চনজঙ্ঘা, লোৎসে ও মাকালু — একসঙ্গে দেখার বিরল অভিজ্ঞতা। সেই সঙ্গে স্পষ্টভাবে ধরা দিয়েছে পাহাড়ের বিখ্যাত ‘স্লিপিং বুদ্ধ’-এর পূর্ণ অবয়ব, যা ট্রেকারদের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণ।
অভিযান শেষে দলের সদস্যরা জানিয়েছেন, জীবনের আসল সৌন্দর্য অনেক সময় লুকিয়ে থাকে চেনা গণ্ডির বাইরে। তাঁদের কথায়, জীবন একটাই, তাই শুধু চার দেওয়ালের মধ্যে আটকে না থেকে অন্তত একবার হলেও বেরিয়ে পড়া উচিত প্রকৃতির ডাকে।
নকশালবাড়ির এই দশ তরুণের হিমালয় অভিযান শুধু একটি ট্রেক নয়, বরং সাহস, বন্ধুত্ব, প্রকৃতিপ্রেম এবং নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের এক অনন্য যাত্রা হয়ে রইল।

