বন্যার জল পেরিয়ে সাফল্যের শিখরে, কোচিং ছাড়াই WBCS ক্র্যাক করে DSP হলেন হুগলীর প্রদীপ্ত
সামান্য বৃষ্টিতেই জনজীবন বিপর্যস্ত হয়। বারবার বন্যায় ভাসে গোটা এলাকা। হুগলির আরামবাগ মহকুমার খানাকুল ব্লকের নন্দনপুর গ্রামের এমন ছবি নতুন নয়। সেই বন্যাকবলিত প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেই এবার বাংলা পেল এক WBCS অফিসার। নন্দনপুরের বাসিন্দা প্রদীপ্ত বাগ কোচিং ছাড়াই WBCS পরীক্ষায় সাধারণ মেধা তালিকায় ১৭তম স্থান অধিকার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (DSP) পদে নিযুক্ত হয়েছেন।
বছরের বিভিন্ন সময়ে ভারী বৃষ্টিতে বানভাসি হয়ে যায় নন্দনপুর। পরিস্থিতির কারণে বহু বাড়িতেই নৌকা রাখা বাধ্যতামূলক। এমন প্রতিকূল পরিবেশেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা প্রদীপ্তর। ছোট থেকেই বন্যার সঙ্গে লড়াই করেই জীবন কাটিয়েছেন তিনি। নন্দনপুরের স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে রূপচাঁদ অ্যাকাডেমি থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। পরে আরামবাগের নেতাজি মহাবিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে অনার্স নিয়ে স্নাতক হন।
২০২০ সাল থেকে কোনও রকম কোচিং ছাড়াই WBCS পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন প্রদীপ্ত। বন্যার সময় দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় পড়াশোনা করতে হয়েছে তাঁকে। এমনকি নৌকা করে পড়াশোনার নোটস সংগ্রহ করার ঘটনাও রয়েছে। সমস্ত প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করেই নিজের লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত ২০২৩ সালে WBCS পরীক্ষায় সাধারণ মেধা তালিকায় ১৭তম স্থান অধিকার করে রাজ্যে নবম র্যাঙ্কে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিসে DSP পদের জন্য নির্বাচিত হন প্রদীপ্ত। তিনি জানান, সাফল্যের পিছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছে সেল্ফ স্টাডি, অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজেকে দূরে রাখা।
ছেলের এই সাফল্যে আবেগে ভেঙে পড়েন বাবা-মা। প্রদীপ্তর DSP হওয়ার খবরে খুশির হাওয়া নন্দনপুর জুড়ে। প্রাক্তন ছাত্রের এমন কৃতিত্বে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তাঁর বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শুরু করে পাড়া-প্রতিবেশী সকলেই


