অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের ভরসার প্রতীক হয়ে উঠল একটাই নাম—বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শিরোপা লড়াইয়ে দুরন্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিল এই কিশোর প্রতিভা। তার আগ্রাসী ইনিংস দেখে স্তব্ধ প্রতিপক্ষ, মুগ্ধ গোটা ক্রিকেটবিশ্ব।
জিম্বাবোয়ের হারারেতে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। শুরুতেই দ্রুত উইকেট হারালেও চাপের মুহূর্তে দলের হাল ধরেন বৈভব। প্রথম বল থেকেই আক্রমণাত্মক মানসিকতায় খেলতে থাকে সে। পেস হোক বা স্পিন—ইংল্যান্ডের কোনও বোলারকেই রেয়াত করেনি বৈভবের ব্যাট।
মাত্র ৫৫ বলে শতরান পূর্ণ করে ফেলে সে। অসাধারণ টাইমিং, নিখুঁত শট নির্বাচন আর সীমাহীন আত্মবিশ্বাসে সাজানো ছিল তার ইনিংস। ব্যাট থেকে আসে একের পর এক চার-ছক্কা। এই প্রতিবেদন লেখার সময় বৈভব অপরাজিত ছিল ৭২ বলে ১৫৫ রানে, স্ট্রাইক রেট ২০০-এরও বেশি। ভারতের স্কোর তখন ২৪ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ২৩০ রান।
অন্য প্রান্তে আয়ুষ মাত্রের সঙ্গে গড়ে ওঠে দুর্দান্ত জুটি। ৫১ বলে ৫৩ রান করে ইনিংসকে স্থিতি দেন আয়ুষ। দু’জনের ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ডের বোলাররা কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়ে। একাধিক বোলার ওভারে ১০-এর বেশি রান খরচ করেন। ফাইনালের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ভারতের হাতে চলে আসে।
পুরো টুর্নামেন্টে ভারত অপরাজিত থেকেছে। যদিও আগের ম্যাচগুলোতে বৈভব ধারাবাহিকভাবে রান করলেও ফাইনালেই সে নিজের সেরা রূপ তুলে ধরে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৭২, জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ৫২ এবং আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে ৬৮ রানের পর ফাইনালের এই শতরান তাকে ইতিহাসের পাতায় তুলে দিল।
আইপিএলেও ইতিমধ্যেই পরিচিত নাম বৈভব সূর্যবংশী। রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে তার নির্ভীক ব্যাটিং ক্রিকেটবিশেষজ্ঞদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এত অল্প বয়সে বড় মঞ্চের চাপ সামলে আগ্রাসী ক্রিকেট খেলার ক্ষমতাই তাকে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে।
ফাইনালের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বৈভব শুধু বড় ইনিংস খেলেনি—সে প্রমাণ করে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ কতটা উজ্জ্বল। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের আসল নায়ক হিসেবে আজ একটাই নাম আলোচনার কেন্দ্রে বৈভব সূর্যবংশী।

