নির্বাচনের মুখে অশান্তি বরদাস্ত নয়— এই কড়া বার্তা নিয়ে দুর্গাপুরের করঙ্গপাড়ায় নির্বাচন কমিশনের কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় সরাসরি ময়দানে নামল প্রশাসন। সরকারি কাজে বাধা অভিযোগে ইতিমধ্যেই তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও পুলিশের তৎপরতা
গত ২৪ ঘণ্টা আগে করঙ্গপাড়া এলাকায় নির্বাচনী বিধি বলবৎ করতে গিয়ে আক্রান্ত হন কমিশনের কর্মীরা। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের সিপি (CP) ডক্টর প্রণব কুমার নিজেই বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেন। অভিযুক্তদের ধরতে রাতেই আবারো চিরুনি তল্লাশি চালায় পুলিশ।
ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ৩ জন মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ ধৃতদের দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়।
তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে, যাতে এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা বাকিদের হদিশ পাওয়া যায়।
এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুটমার্চ
হামলার ঘটনার পর থেকেই করঙ্গপাড়া ও সংলগ্ন এলাকা থমথমে রয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে আস্থা ফেরাতে এবং নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে কমিশনারেট। আজ সকাল থেকেই এলাকায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা যৌথভাবে রুটমার্চ শুরু করেছেন। প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা— নির্বাচনের কাজে বাধা দিলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের মনোনীত প্রার্থী কবি দত্ত এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেই পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান:
”যে দেওয়ালটি নিয়ে বিতর্ক, সেটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন। আমরা মালিকের অনুমতি (Consent) নিয়েই দেওয়াল লিখন করেছিলাম। নির্বাচন কমিশন এখানে বিজেপির হয়ে কাজ করছে।”
পাল্টা হিসেবে কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন মেনেই সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং শান্তি বজায় রাখাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।

