বসিরহাটের মিনাখাঁ বিধানসভা এলাকা রবিবার রাজনৈতিক তাপমাত্রায় যথেষ্টই গরম ছিল। মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মুচিখোলা এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ঊষা রানী মণ্ডলের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী সভায় হাজির হয়ে রাজ্যসভার সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন। তার বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল এসআইআর ইস্যু, যা নিয়ে তিনি সরাসরি কেন্দ্রের নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন।
মঞ্চে উঠে বাবুল সুপ্রিয় অভিযোগ করেন, এসআইআরের মতো বিষয়কে সামনে এনে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তার দাবি, এই ধরনের পদক্ষেপ আসলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনার জন্য নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “যে বিষয় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়, সেটাকে বড় করে দেখিয়ে আসল সমস্যা থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা চলছে।”কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, কৃষক সমস্যা।এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতেই নতুন নতুন ইস্যু তৈরি করা হচ্ছে। তার কথায়, “মানুষ আজ কাজ চায়, উন্নয়ন চায়। কিন্তু সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর না দিয়ে অন্য প্রসঙ্গ সামনে আনা হচ্ছে।” সভামঞ্চ থেকে তিনি ভোটারদের সতর্ক থাকার বার্তাও দেন, যাতে তারা “প্রচার আর বাস্তবের ফারাক” বুঝতে পারেন।এই সভায় উপস্থিত ছিলেন মিনাখাঁর তৃণমূল প্রার্থী ঊষা রানী মণ্ডল, উত্তর ২৪ পরগণা জেলা পরিষদের পরিষদীয় দলনেতা মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডল, হাড়োয়া ব্লক ২ সভাপতি ফরিদ জামাদার, মিনাখাঁ ১ ব্লক সভাপতি সাইফুদ্দিন মোল্লা, মিনাখাঁ ব্লক ২ সভাপতি তাজউদ্দিন মোল্লা সহ একাধিক দলীয় নেতৃত্ব ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। তাদের উপস্থিতিতে সভা কার্যত শক্তি প্রদর্শনের রূপ নেয়। ঊষা রানী মণ্ডল নিজের বক্তব্যে এলাকার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন এবং মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, স্থানীয় স্তরে রাস্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা এবং নদীবাঁধ রক্ষার মতো বিষয়গুলোতেই তাঁর অগ্রাধিকার থাকবে। অন্যদিকে মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডল সংগঠনের শক্তির ওপর জোর দিয়ে বলেন, বুথ স্তর পর্যন্ত সংগঠনকে মজবুত করেই এই নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে এগোচ্ছে তৃণমূল। সব মিলিয়ে, মিনাখাঁর এই সভা শুধুমাত্র একটি প্রচারসভা নয়, বরং কেন্দ্র-রাজ্য রাজনৈতিক সংঘাতের প্রতিচ্ছবি হিসেবেই উঠে এল। বাবুল সুপ্রিয়র আক্রমণাত্মক বক্তব্যে স্পষ্ট—এসআইআর ইস্যুকে সামনে রেখেই আসন্ন নির্বাচনে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে চাইছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

