আমার এই দোকানে, সবাই আসেন আমার গাছের ডান বাম সবাই সমান। নেতাজি কেবিন সবার জন্য। এবং আমি ঠিক সেটাই মনে করি, অকপটে জানালেন নেতাজি কেবিনের কর্ণধার প্রণবেন্দ্য বাগচী। তিনি জানালেন লোকসভা, বিধানসভা এবং পুরো সভা এই তিন ধরনের ভোটে শিলিগুড়ির সমস্ত ডানপন্থী বামপন্থী নেতারা আমার নেতাজি কেবিনে এসে চা খেতে খেতে আলোচনা করেন। এটা আজকের থেকে না। বহু বছর ধরে চলে আসছে, কাজেই আমার নেতাজি কেবিনে আমি কোন রাজনৈতিক রং লাগাতে দিই না। আমার কাছে সবাই সমান, এখানে এসে সবাই চা খেতে খেতে ভোটের জন্য অথবা বলতে পারা যায় ভোটে জিব্বার জন্য পরিকল্পনা করেন, এবং ভোটে জিততে গেলে কি কি দরকার সেটা নিও আলোচনা করেন। আমি যে কোন রাজনৈতিক দলকে পছন্দ করি, এবং সেটা আমার ব্যক্তিগত মতামত। কিন্তু যখনই আমি নেতাজি কেবিনে ঢুকবো তখন সেটা একটা আলাদা মাত্রা নেবে। এমনিতেই শিলিগুড়ি বিখ্যাত এখানে কোন রাজনৈতিক দিক থেকে কোনদিন কোন সমস্যা তৈরি হয় না, ব্যতিক্রম নয় নেতাজি কেবিনও এখানে একদম বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মধ্যে দিয়ে রাজনৈতিক পরিকল্পনা তৈরি হয়। তাই আমি মনে করি নেতাজি কেবিনের মতনই গোটা বাংলার তৈরি হওয়া উচিত। কারণ রাজনীতি রাজনীতির জায়গায়, সবার উপরে মানুষ। তাই এই জায়গাটা যেন আমরা ঠিক রাখি। কোন ধরনের কোন সমস্যা তৈরি হলে আমরা যেন একে অপরকে পাশে পাই। জানালেন প্রণব বাবু। তিনি আরো জানালেন রাজনীতি রাজনীতির জায়গায় থাকুক, কিন্তু তার জন্য যেন পরিবেশ নষ্ট না হয়। নেতাজি কেবিন গোটা বাংলায় বিখ্যাত, শুধু গোটা বাংলায় নয় গোটা ভারতে। তাই এখানে আমি কোন রাজনৈতিক মতবিরোধ চাই না। রাজনীতি রাজনীতিক জায়গায় চলুক ভোট ভোটের মত হয়ে যাক। কিন্তু তার জন্য যেন শিলিগুড়ি কলঙ্ক যুক্ত না হয়। আমি আমার নেতাজি কেবিনে রাজনৈতিক আলোচনাকে তার মতো করেই দেখি, আমার কোন সমস্যা তৈরি হয় না। আর ভবিষ্যতেও এই ভাবেই দেখব জানালেন প্রণো বিন্দু বাগচী।

