পণের দাবিকে কেন্দ্র করে নির্যাতনের অভিযোগে এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল দুর্গাপুরে। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত টাকার দাবিতে চলছিল শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার, শেষপর্যন্ত সেই নির্যাতনের বলি হলেন গৃহবধূ। অভিযোগ, বাঁকুড়ার বড়জোড়া থানার পখন্না গ্রামের বাসিন্দা সুধা ধীবর শেঠের বিয়ে হয় দুর্গাপুর থানার অন্তর্গত সেকেন্ডারি রোড এলাকার বাসিন্দা নিশান শেঠের সঙ্গে। বিয়ের সময় কনের পরিবার তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী নগদ অর্থ, সোনার গয়না ও আসবাবপত্র সহ বিভিন্ন সামগ্রী প্রদান করে। তবে বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই স্বামী নিশান শেঠ ও শাশুড়ি পূর্ণিমা শেঠের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ৫ লক্ষ টাকা পণের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।
পরিবারের দাবি, আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে সেই টাকা দিতে না পারায় প্রায়শই মারধর ও মানসিক অত্যাচারের শিকার হতেন সুধা। এক বছরের একটি পুত্র সন্তান থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তদের আচরণে পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রবিবার ভোর প্রায় ৩ টা নাগাদ সুধা ধীবর শেঠের অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর পান তাঁর আত্মীয়রা। মৃতার দাদা গোপীনাথ ধীবর দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে দাবি করেছেন, পণের দাবী পূরণ না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাঁর বোনকে খুন করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী শিশু সন্তানকে নিয়ে পলাতক এবং বধূর স্ত্রী ধন সামগ্রীও নিজেদের দখলে রেখেছে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। পাশাপাশি সোমবার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

