খাবারের গুণমান নিয়ে কোনও আপস নয়! সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবার কামারপুকুরে অভিযানে নামল প্রশাসন। আরামবাগ মহকুমা শাসকের নেতৃত্বে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা বৃহস্পতিবার এলাকার একাধিক খাবারের দোকানে তল্লাশি চালান। মিষ্টির দোকান থেকে বিরিয়ানির দোকান—বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে খাবারের গুণমান, প্রস্তুত প্রণালী এবং স্বাস্থ্যবিধি খতিয়ে দেখেন তাঁরা। প্রশাসনের এই অভিযান ঘিরে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সাধারণ মানুষ প্রতিদিন যে সমস্ত দোকান থেকে মিষ্টি, বিরিয়ানি-সহ নানা ধরনের খাবার কিনে থাকেন, সেগুলিতে খাদ্য সুরক্ষার নিয়ম যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতেই এই উদ্যোগ। দোকানগুলিতে খাবার তৈরির পরিবেশ কেমন, ব্যবহৃত উপকরণ সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে কি না এবং খাদ্য প্রস্তুতির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হচ্ছে কি না, সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা।
খাদ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে কোনওরকম গাফিলতি যাতে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব না ফেলে, সেই লক্ষ্যেই এই ধরনের নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকদের একাংশ। বিশেষ করে মিষ্টি, বিরিয়ানি ও অন্যান্য প্রস্তুত খাবারের ক্ষেত্রে উপকরণের গুণমান এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
উৎসবের মরশুমে কিংবা অন্যান্য সময়ে দোকান থেকে খাবার কেনার প্রবণতা বাড়ে। কিন্তু সেই খাবার কতটা স্বাস্থ্যসম্মত, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন থেকেই যায়। তাই খাবারের গুণমান যাচাইয়ের পাশাপাশি খাদ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত নিয়ম সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের সচেতন করাও এই ধরনের অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
তবে এই অভিযানে কোনও দোকানের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপের বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি। ফলে পরীক্ষার ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের দিকেই নজর রয়েছে।
এখন দেখার, কামারপুকুরে প্রশাসনের এই অভিযান কতটা ধারাবাহিক হয়। সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু এক দিনের অভিযান নয়, খাবারের গুণমান ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হোক। খাদ্য সুরক্ষার নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক, যাতে নিশ্চিন্তে খাবার কিনতে পারেন সাধারণ মানুষ।

