বাঁকুড়া জেলার ইন্দাস বিধানসভার অন্তর্গত আকুই ১ নম্বর অঞ্চলের বনকী গ্রামে সোহেলা উৎসবকে কেন্দ্র করে উৎসবের আমেজে মেতে উঠলেন হাজার হাজার মানুষ। এই উৎসবকে ঘিরে সকাল থেকেই গ্রামে ছিল মানুষের ব্যাপক ভিড়। শুধু বনকী গ্রাম নয়, আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকেও বহু মানুষ উৎসবে সামিল হন। সব মিলিয়ে গোটা এলাকা পরিণত হয় এক আনন্দমুখর মিলনক্ষেত্রে।
এই উৎসব উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন ইন্দাস বিধানসভার বিধায়ক নির্মল কুমার ধারা, বিপ্রদাস অধিকারী, পূর্ণেন্দু মুখার্জী, উৎপল ঘোষ, বাবু পাঁজা-সহ একাধিক বিজেপি নেতৃত্ব ও কর্মীবৃন্দ। পাশাপাশি উৎসবে অংশগ্রহণ করেন এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা এবং অসংখ্য গ্রামবাসী। জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের উপস্থিতিতে উৎসবের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পায়।
বলা বাহুল্য, সোহেলা উৎসবকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও ধর্মীয় ভাবাবেগকে সঙ্গে নিয়ে এই উৎসব যেন গ্রামের মানুষের কাছে এক বিশেষ আনন্দের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। মা মনসার পুজোকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি আয়োজন করা হয় নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
উৎসবের আকর্ষণ বাড়াতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে যাত্রাপালা, বিচিত্রানুষ্ঠান, নৃত্য পরিবেশন-সহ একাধিক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই সমস্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা। তাঁদের পরিবেশনায় উৎসবের আনন্দ আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে যাত্রা ও বিচিত্রানুষ্ঠান দেখতে দর্শকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষ, সকলের উপস্থিতিতে উৎসব প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
গ্রামের এই উৎসবকে ঘিরে শুধু ধর্মীয় আবেগই নয়, সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক মিলনের এক সুন্দর ছবি ফুটে ওঠে। দূরদূরান্ত থেকে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের আগমন ঘটে। একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখার এক সুন্দর উদ্যোগ হিসেবেও এই উৎসব বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
এছাড়াও উৎসব চলাকালীন স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সামগ্রিকভাবে বনকী গ্রামের সোহেলা উৎসবকে কেন্দ্র করে মানুষের যে বিপুল উৎসাহ, স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের আয়োজন দেখা গেল, তা নিঃসন্দেহে এলাকার মানুষের কাছে এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।
ধর্মীয় আচার, লোকসংস্কৃতি, যাত্রাপালা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বনকী গ্রামের সোহেলা উৎসব যেন গ্রামীণ ঐতিহ্য ও মানুষের মিলনমেলার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠল।

