ধনিয়াখালিতে তৃণমূল বিধায়ক অসীমা পাত্রের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সৌমেন ঘোষ ওরফে ‘পটল’-কে গ্রেফতার করল পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে ধনিয়াখালি থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে ভাঙচুর, মারধর এবং অগ্নিসংযোগের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। বুধবার তাঁকে চুঁচুড়া আদালতে পেশ করা হবে।
অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর ধনিয়াখালিতে পটলের দাপট আরও বেড়ে যায়। গত কয়েকটি পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতে বাধা, মারধর এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর মতো অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে। বিরোধীদের দাবি, পটলের নির্দেশেই এসব ঘটনা ঘটত। যদিও অভিযোগগুলির সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
ধনিয়াখালির লোকবাটি গ্রামের বাসিন্দা শেখ মহঃ ইব্রাহিমের অভিযোগ, গত ১৬ জানুয়ারি একদল তৃণমূল কর্মী তাঁদের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায়, বাইকে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর করে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ৬ আগস্ট ধনিয়াখালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ইব্রাহিম। অভিযোগে বিধায়ক অসীমা পাত্র, সৌমেন ঘোষ ওরফে পটল-সহ মোট ১৯ জনের নাম রয়েছে।
পুলিশের দাবি, ওই অভিযোগের তদন্তের ভিত্তিতেই পটলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিন ধনিয়াখালি থানার বাইরে তাঁকে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা ‘চোর চোর’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ দেখান। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

