বাঁকুড়া জেলার বেলুট, রসুলপুর অঞ্চলে, ঈদিল চক গ্রামে মুসলিম পরিবারের পাশে হিন্দু পরিবারের ছেলেরা ওবিজেপি কর্মীবৃন্দরা
মুসলিম পরিবারের মুন্নিহারা বেগমকে সাহায্য করতে এগিয়েএলেন-সোনামুখী মন্ডল 4 যুব সভাপতি স্বরূপ ঘোষ সহ বিজেপি কর্মীরা।
সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও মানবিকতার এক অনন্য নজির দেখা গেল। বিপদের সময় ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে এক মুসলিম দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন হিন্দু পরিবারের কয়েকজন যুবক এবং বিজেপি কর্মীবৃন্দ। তাঁদের এই উদ্যোগে আরও একবার ফুটে উঠল—মানুষের বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় পরিচয়।
একসময় সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন একটি আশঙ্কা ও ভয় তৈরি হয়েছিল যে, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে হয়তো মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের উপর অত্যাচার বা বৈষম্য বাড়তে পারে। কিন্তু বাস্তবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই ধরনের উদ্যোগ সেই ধারণার সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ছবি সামনে আনছে বলে মনে করছেন স্থানীয়দের একাংশ।
জানা যায়, ওই এলাকার কয়েকজন হিন্দু পরিবারের যুবক এবং বিজেপি কর্মীরা দরিদ্র মুসলিম পরিবারের মানুষের হাতে সাহায্যের সামগ্রী তুলে দেন। শুধু সাহায্যের হাত বাড়িয়েই তাঁরা থেমে থাকেননি, পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন। পাশাপাশি একটি পাকা বাড়ি করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ বা ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও মানুষের দুঃসময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর এই মানসিকতা সমাজে সম্প্রীতির বার্তা আরও শক্তিশালী করবে।
ধর্ম যার যার, কিন্তু মানবিকতা সবার—এই বার্তাই যেন আরও একবার সামনে এনে দিল এই ঘটনা। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সমাজের সব মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস, সহযোগিতা ও ঐক্য গড়ে তুলতে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই দৃশ্য নিঃসন্দেহে সম্প্রীতির এক সুন্দর বার্তা বহন করছে। আগামী দিনে এমন মানবিক উদ্যোগ আরও বাড়বে এবং ধর্ম-বর্ণের বিভাজন ভুলে মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়াবে—এমনটাই আশা করছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।

