• Fri. Aug 21st, 2026

বালিগঞ্জে ভুয়ো কল সেন্টারে হানা, বিদেশিদের প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার ৪

কলকাতার বালিগঞ্জে একটি ভুয়ো কল সেন্টার চালানোর অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশের সাইবার পুলিশ। গোপন সূত্রে তথ্য পাওয়ার পর প্রযুক্তিগত নজরদারি ও মাটিতে তদন্ত চালিয়ে বালিগঞ্জের একটি জায়গায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে তালতলা এলাকা থেকে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্তদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের একটি ছোট দল মূলত বিদেশি নাগরিকদের, বিশেষ করে ব্রিটেনের গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ছিল। টেলিকম পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তারা ওয়্যারলেস ডেটা পরিষেবা, রিপ্লেসমেন্ট ও কাস্টমার কেয়ারের নাম করে বিদেশিদের ফোন করত। এরপর VOIP অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে গ্রাহকদের কার্ডের তথ্য, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ ও পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এভাবে বিপুল পরিমাণ পাউন্ড ও ডলার প্রতারণা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রের মূল পান্ডা বিহারের বাসিন্দা। ডার্ক ওয়েব-সহ বিভিন্ন উৎস থেকে বিদেশি গ্রাহকদের কলিং ডেটা বা ‘লিড’ সংগ্রহ করে সে এই চক্রকে সরবরাহ করত বলে অভিযোগ।
ধৃতদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। উদ্ধার হওয়া ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলি ফরেন্সিক পরীক্ষার পাশাপাশি ডেটা বিশ্লেষণ করা হবে। এর মাধ্যমে আরও কোনও দেশি বা আন্তর্জাতিক প্রতারণার ঘটনা এবং চক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্যদের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থের সন্ধান করে তা ফ্রিজ করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী আয়কর দফতর ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের মতো সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকেও বিষয়টি জানানো হবে।
ধৃতদের নাম— ফিরদৌস ইকবাল (৩৬), শেখ সাজ্জাদ (৩৬), রূপম টিমোথি বিশ্বাস (২৩) এবং শব্বির আলম (৪৭)। এই ঘটনায় কলকাতা সাইবার থানায় ৪৪/২৬ নম্বর মামলা রুজু হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

হোম পেজ
এক নজরে
দেশ
খেলা
বিনোদন