টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত বাঁকুড়ার জনজীবন। তার ওপর হাওয়া অফিসের লাল সতর্কতা। একনাগাড়ে বৃষ্টির জেরে হু হু করে বেড়েছে শালী নদীর জলস্তর। পাত্রসায়ের ব্লকের নারায়ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েত সংলগ্ন এলাকায় শালী নদীর জল এখন বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে।
আর সেই জলের জেরে নারায়ণপুর থেকে ধগড়িয়া যাওয়ার পথে শালী নদী সংলগ্ন কয়েক হাজার বিঘা চাষের জমি এখন জলের তলায়। মাঠের দিকে তাকিয়ে মাথায় হাত কৃষকদের।
কেউ মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে, আবার কেউ সোনা-গয়না বন্ধক রেখে চাষ করেছিলেন। কিন্তু চোখের সামনে জলের তলায় চলে যাচ্ছে তাঁদের কষ্টের ফসল। ধান নষ্ট হয়ে গেলে কীভাবে মহাজনের ঋণ শোধ করবেন, কীভাবেই বা আগামী মরশুমে চাষ করবেন—এই চিন্তায় কার্যত রাতের ঘুম উড়েছে কৃষকদের।
কৃষকদের আশঙ্কা, বৃষ্টি আরও বাড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। ধানের জমি ছাড়িয়ে জল উঠে আসতে পারে রাস্তার ওপরেও। সেক্ষেত্রে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে শালী নদীর জল বইতে থাকায় আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন পাত্রসায়েরের নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ। এখন তাঁদের একটাই প্রার্থনা—আর যেন বৃষ্টি না বাড়ে, দ্রুত নামুক শালী নদীর জল, বাঁচুক তাঁদের ফসল ও জীবিকা।

