দিন যত গড়াচ্ছে, বাজারে আলুর দাম ততই নিম্নমুখী হচ্ছে। উৎপাদনের তুলনায় বাজারদর ক্রমাগত কমে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন জেলার হাজার হাজার আলুচাষি। চাষের জন্য নেওয়া ঋণ, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ এবং শ্রমিকের খরচ মেটাতে গিয়ে অনেকেই আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বর্তমান বাজারদরে আলু বিক্রি করে উৎপাদন খরচও উঠে আসছে না বলে অভিযোগ চাষিদের।
চাষিদের দাবি, এত পরিশ্রম ও বিনিয়োগের পরও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় তাঁদের সংসার চালানোই কঠিন হয়ে উঠেছে। অনেকের মাথায় রয়েছে ব্যাংক ও সমবায় সংস্থার ঋণের বোঝা। নির্ধারিত সময়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। পরিবার চালানো, সন্তানের পড়াশোনা এবং দৈনন্দিন খরচ মেটানো নিয়েও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন বহু কৃষক।
কৃষকদের একাংশের বক্তব্য, বাজারে দামের এই লাগাতার পতন রুখতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, সরকার ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিশ্চিত করা, সরকারি উদ্যোগে আলু ক্রয়, সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা এবং কৃষকদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। এতে অন্তত কিছুটা স্বস্তি মিলবে বলে আশা তাঁদের।
এখন জেলার কৃষক মহলের নজর সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। আলুর বাজারদর স্থিতিশীল করতে এবং চাষিদের স্বার্থ রক্ষায় কত দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

