এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার গোঘাট থানায় তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মৃতদেহ থানায় নিয়ে আসার পর বাপের বাড়ির লোকজনের বিক্ষোভে কার্যত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা থানা চত্বর। গৃহবধূকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে—এমনই অভিযোগ তুলে সরব হন পরিবারের সদস্যরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত গৃহবধূর নাম সুজাতা মালিক মল্লিক। তাঁর বাপের বাড়ি গোঘাট থানার অন্তর্গত আনুড় দুর্গপুর এলাকায়। বিয়ের পর তিনি গোঘাট থানারই বেতমনি এলাকায় থাকতেন। তাঁর একটি সন্তানও রয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।
পরিবার সূত্রে খবর, আচমকাই সুজাতার মৃত্যুর খবর পুলিশের কাছে পৌঁছয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার করে গোঘাট থানায় নিয়ে আসে। এরপরই খবর দেওয়া হয় তাঁর বাপের বাড়ির সদস্যদের। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ও আত্মীয়স্বজন একে একে থানায় এসে জড়ো হন।
থানায় মৃতদেহ রয়েছে জানতে পেরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। পরিবারের অভিযোগ, সুজাতার মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন তাঁরা। মৃত্যুর পিছনে রহস্য রয়েছে দাবি করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে থানায় বিক্ষোভ শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা।
বিক্ষোভের জেরে কিছুক্ষণের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা থানা চত্বর। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণে আসে পরিস্থিতি।
মৃতার পরিবারের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ ও সঠিক তদন্ত করতে হবে। সুজাতার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, কী পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে এবং এই ঘটনায় কারও ভূমিকা রয়েছে কি না—সবকিছু খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একইসঙ্গে, ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর আসল কারণ সামনে আনার দাবিও উঠেছে।
তবে ঠিক কীভাবে সুজাতার মৃত্যু হয়েছে, তাঁর শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন ছিল কি না কিংবা পরিবারের তোলা অভিযোগের সত্যতা কতটা—তা এখনও স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিশের তদন্তের পরই এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পরিষ্কার ছবি পাওয়া যাবে।
গোঘাটের এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একদিকে গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু, অন্যদিকে বাপের বাড়ির তরফে ওঠা গুরুতর অভিযোগ—সব মিলিয়ে ঘটনার দিকে নজর রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে পুলিশেরও। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর নেপথ্যের আসল রহস্য সামনে আসে কি না, এখন সেটাই দেখার।

