পূর্ব বর্ধমান জেলার মাধবডিহি থানার অন্তর্গত উচালন পঞ্চায়েত বাজারে একটি গয়নার দোকানে চুরির ঘটনায় বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা বাইক গ্যাংয়ের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মাধবডিহি থানার পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, বিপুল পরিমাণ রুপোর গয়না, নগদ টাকা এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাধবডিহি থানার মামলা নং ১৮৯/২৬, তারিখ ২৫ জুলাই ২০২৬, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ৩০৩(২)/৩(৫) ধারায় রুজু করা হয়। অভিযোগকারী প্রশান্ত দাস, পিতা মৃত শক্তিপদ দাস, গ্রাম ব্রাহ্মণডাঙ্গা মাধবডিহি থানার বাসিন্দা। অভিযোগ অনুযায়ী, ২৫ জুলাই সকাল প্রায় ১০টা ১০ মিনিটে তিনি উচালন পঞ্চায়েত বাজারে তাঁর ‘সিদ্ধেশ্বরী জুয়েলার্স’ দোকান খুলে সোনা, রুপো ও অন্যান্য গয়না ভর্তি দুটি ব্যাগ চেয়ারে রেখে বাইরে আবর্জনা ফেলতে যান। সেই সুযোগে এক ব্যক্তি দোকানে ঢুকে ব্যাগ দুটি নিয়ে পালিয়ে যায়। দোকানের বাইরে একটি সাদা রঙের মোটরসাইকেলে থাকা আরেক সহযোগী তাকে নিয়ে দ্রুত এলাকা ছাড়ে। ধাওয়া করেও অভিযুক্তদের ধরা সম্ভব হয়নি। তড়িঘড়ি তদন্তে নামে মাধবডিহি থানার পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে জানতে পারা যায় ঘটনায় জড়িত ছিল চার ব্যক্তি। তারা হুগলি জেলার তারকেশ্বর থানার অন্তর্গত চাঁপাডাঙা দিক থেকে একটি সাদা ও একটি লাল রঙের দুটি বাজাজ পালসার মোটরসাইকেলে এসে চুরি করে পালিয়ে যায়।
গতরাতে অর্থাৎ শনিবার তদন্তকারী অফিসারের নেতৃত্বে মাধবডিহি থানার একটি দল চাঁপাডাঙায় অভিযান চালায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা কয়েক দিন আগেই এলাকা ছেড়ে গেছে। পরে স্থানীয় অনুসন্ধান ও এসওজি সেলের সহায়তায় উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর থানার এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতরা হল— কাওয়াড়ি মঞ্জুনাথ ,অজয় দাস , ত্রিনাথ দাস এবং সীতারাম দাস। ধৃত চারজনেরই বাড়ি উড়িষ্যা রাজ্যের জাজপুর জেলার কোরাই থানার পূর্বাকোট এলাকায়।
ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে—একটি অটো পিস্তল,পাঁচ রাউন্ড গুলি,বেশ কিছু পরিমাণ রুপোর চেন, বালা, পায়েল, আংটি ও অন্যান্য গয়না,নগদ ২ লক্ষ ৬ হাজার ৫০০ টাকা,মোটরসাইকেলের লক ভাঙার জন্য তৈরি স্টেইনলেস স্টিলের মাস্টার কি,দুটি বাজাজ পালসার মোটরসাইকেল,গয়নার ওজন মাপার পোর্টেবল মেশিন,দুটি মোবাইল ফোন।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জেরায় ধৃতরা স্বীকার করেছে যে চুরি করা সোনার গয়না বিভিন্ন স্বর্ণালঙ্কারের দোকানে বিক্রি করে নগদ টাকা আদায় করত। তদন্তকারীদের অনুমান, এই চক্রটি গত এক মাসে হুগলি, পূর্ব বর্ধমান ও বাঁকুড়া জেলায় সংঘটিত একাধিক চুরি ও দুষ্কর্মের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
ঘটনার তদন্ত চলছে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে ধৃতদের ৫ দিনের পুলিশ হেফাজত পাওয়া গেছে।
এরপর ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হবে।

