দেশমাতৃকার প্রতি শ্রদ্ধা ও জাতীয় পতাকার প্রতি অগাধ ভালোবাসার আবেগে বুধবার দুপুরে পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ ব্লকের তোড়কোনা গ্রামে অনুষ্ঠিত হল ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ বা ‘প্রতিটি ঘরে তেরঙ্গা’। স্বাধীনতার অমৃত আবেগকে হৃদয়ে ধারণ করে হাতে হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে এই পদযাত্রায় সামিল হলেন তোড়কোনা জগবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয় ও পীতাম্বরপুর গার্লস স্কুল,এবং তোরকোনা অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয় এর ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকাগণ এবং এলাকার সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন স্তরের মানুষজন। বুধবার তোড়কোনা বাজার চত্বর থেকেই শুরু হয় এই বর্ণাঢ্য তিরঙ্গা যাত্রা। হাতে জাতীয় পতাকা, কণ্ঠে দেশাত্মবোধক স্লোগান—ব্যান্ড এর জাতীয় গানের সুরে গোটা এলাকা যেন মুহূর্তের মধ্যেই পরিণত হয় দেশপ্রেমের আবেগঘন প্রাঙ্গণে। পথ চলতে চলতে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগ, দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষার বার্তা তুলে ধরা হয়। ছাত্র-ছাত্রীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পদযাত্রায় তৈরি হয় বাড়তি উন্মাদনা। তোড়কোনা বাজার থেকে তিরঙ্গা যাত্রাটি গ্রামের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে পৌঁছায় কাছারি বাড়ি প্রাঙ্গণে। সেখানে প্রবাদ প্রতিম আইনজ্ঞ এবং দানবীর স্যার রাসবিহারী ঘোষের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। দেশ ও সমাজের জন্য তাঁর অবদানকে স্মরণ করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর ফের তিরঙ্গা হাতে শোভা যাত্রাটি ফিরে আসে তোড়কোনা বাজারে এবং সেখানেই কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সহ-সভানেত্রী শম্পা মাথুর জানান, স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে দেশের প্রতিটি বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। জাতীয় পতাকা শুধু একটি প্রতীক নয়, এটি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অগণিত মানুষের আত্মত্যাগের স্মারক—এই চেতনাই সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে এই উদ্যোগের।
‘হর ঘর তিরঙ্গা যাত্রা’কে ঘিরে এদিন তোড়কোনার মানুষের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা। ছোটদের হাতে পতাকা থেকে প্রবীণদের কণ্ঠে দেশাত্মবোধক স্লোগান—সব মিলিয়ে স্বাধীনতা দিবসের আগেই তোড়কোনা গ্রামে ফুটে উঠল দেশপ্রেমের এক অনন্য ছবি। জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষা এবং প্রতিটি ঘরে তিরঙ্গা উত্তোলনের আহ্বানে এদিন একসুরে মিলিত হলেন এলাকার মানুষ।

