পঞ্চায়েতের বিনা অনুমতিতে ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকার গাছ কেটে পাচারের অভিযোগ তৃনমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে, দেড় বছর পর অবশেষে তদন্তের দাবিতে বিডিওর দ্বারস্থ তৃনমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত
পঞ্চায়েতের তত্বাবধানে থাকা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকার গাছ বিনা অনুমতিতে কেটে পাচার করেছিল তৃনমূল নেতৃত্ব। বারেবারে দলীয় নেতৃত্বকে ওই গাছ বিক্রির টাকা গ্রাম পঞ্চায়েতে জমা করার কথা বলেছিলেন তৃনমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ও উপ প্রধান। কিন্তু লাভের লাভ কিছুই হয়নি। উল্টে জুটেছিল হুমকি। রাজ্যে পালাবদলের পর প্রায় দেড় বছর আগের সেই ঘটনার তদন্ত চেয়ে বিডিও ও থানার পুলিশের দ্বারস্থ হলেন তৃনমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত প্রধান ও উপ প্রধান। ঘটনা বাঁকুড়ার ইন্দাস ব্লকের রোল গ্রাম পঞ্চায়েতের।
বাঁকুড়া জেলার ইন্দাস ব্লকের রোল গ্রাম পঞ্চায়েত তৃনমূল পরিচালিত। এই রোল গ্রাম পঞ্চায়েতের তত্ববধানে স্থানীয় ডিভিসির মেইন ক্যানাল ও শাখা ক্যানালের দুপাড়ে ছিল ইউক্যালিপটাশ, শিশু সহ বহু দামী গাছ। বছর দেড়েক আগে গ্রাম পঞ্চায়েতের অনুমতি ছাড়াই সেই সমস্ত গাছ কেটে পাচার করে দেন তৃনমূলের স্থানীয় অঞ্চল নেতৃত্ব এমনটাই অভিযোগ। বিষয়টি জানার পর রোল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপ প্রধান গাছ বিক্রির টাকা গ্রাম পঞ্চায়েতে জমা করার জন্য দলের অঞ্চল নেতৃত্বকে অনুরোধ করলে পঞ্চায়েত প্রধান ও উপ প্রধানের উপর চড়াও হয়ে তৃনমূলের অঞ্চল নেতৃত্বের একাংশ তাঁদের উপর চড়াও হয়ে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। ভয়ে সেসময় আর এবিষয়ে পদক্ষেপ করার সাহস পাননি পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপ প্রধান। তবে এই ঘটনার প্রায় দেড় বছর পর রাজ্যে পালাবদল হতেই এবার সেই ঘটনার প্রকৃত তদন্ত চেয়ে ইন্দাস ব্লকের বিডিও ও ইন্দাস থানার দ্বারস্থ হলেন ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপ প্রধান। বিডিওর কাছে ১০ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে গাছ বিক্রির ওই টাকা উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি ওই ১০ জনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন পঞ্চায়েত প্রধান ও উপ প্রধান। বিজেপির দাবি পঞ্চায়েতের নিজস্ব ফান্ডের টাকা এভাবেই লুঠ করেছে তৃনমূল। ভয়ে কেউ এতদিন মুখ খুলতে পারেনি। রাজ্যে পালাবদলের পর ভয় আউট হতেই এখন তাদের দলের লোকেরাই এই দূর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন।

