দীর্ঘদিন ধরে চলা এই নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে এবং এলাকার নিরাপত্তা ফেরাতে এবার সরাসরি থানার দ্বারস্থ হলেন গ্রামবাসীরা। অবৈধ চোলাই মদ বিক্রি বন্ধ ও কঠোর পুলিশি পদক্ষেপের দাবিতে মেমারি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের (আইসি) কাছে একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন এলাকার ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, মেমারি থানার দলুইবাজার অঞ্চলের ভাঁড়পোতা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবাধে চলছে এই বেআইনি চোলাই মদের বেচাকেনা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রকাশ্যেই চলে মদ্যপানের আসর। অভিযোগ, মদ্যপদের তাণ্ডবে এলাকার সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন নারী, শিশু এবং প্রবীণ নাগরিকরা। সন্ধ্যে নামলে মেমারির এই এলাকায় নারীদের নিরাপত্তা একপ্রকার জেরবার হয়ে ওঠে বলে দাবি স্থানীয়দের।
ক্ষোভের বারুদ আরও উসকে দিয়েছে এলাকার শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ। অভিযোগপত্রে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে মদের আসর বসে, তার অদূরেই রয়েছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। দিনের আলোতেই মাতালদের আনাগোনা লেগে থাকে স্কুলের চারপাশে। ফলে খুদে ছাত্রছাত্রীদের মানসিক বিকাশ যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনই চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা। শুধু তা-ই নয়, রাস্তার ওপর মাতালদের বেপরোয়া চলাচলের কারণে প্রায়শই যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
গ্রামবাসীদের আক্ষেপ, এর আগে একাধিকবার স্থানীয় স্তরে মৌখিকভাবে বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ না দেখায় বাধ্য হয়েই এবার পুলিশের লিখিত স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। অবিলম্বে এই অবৈধ চোলাই মদের কারবার পুরোপুরি বন্ধ করা, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া এবং এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহলদারির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
জানা গিয়েছে, মেমারি থানার পাশাপাশি স্থানীয় পালসিট ফাঁড়ি এবং মেমারি বিধানসভার বিধায়ক মানব গুহর কাছেও এই বিষয়ে পৃথক লিখিত অভিযোগপত্র জমা দিতে চলেছেন গ্রামবাসী। এখন দেখার, পুলিশ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা এই অবৈধ চোলাইয়ের কারবার গুঁড়িয়ে দিতে কী ভূমিকা নেন। এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর ভাঁড়পোতার বাসিন্দাদের।

