য়স ৫৫। পরনে সন্ন্যাসিনীর পোশাক, পায়ে নেই জুতো। অথচ মনের জোর আর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে সঙ্গী করেই একের পর এক বাধা টপকে গেলেন তিনি। কেরলের সিস্টার সাবিনার এই সাফল্য যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিল, স্বপ্নপূরণের পথে বয়স কখনও চূড়ান্ত বাধা হতে পারে না।
কেরলের ওয়ানাডের বাসিন্দা সিস্টার সাবিনা একসময় জাতীয় স্তরের বাধা দৌড়ের প্রতিযোগী ছিলেন। ছাত্রজীবনে রাজ্য ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন। পরে ধর্মীয় জীবন বেছে নিয়ে শিক্ষকতার পেশায় যুক্ত হন। ছাত্রছাত্রীদের খেলাধুলা ও শরীরচর্চায় উৎসাহিত করলেও নিজের মধ্যে থাকা দৌড়বিদকে হারিয়ে যেতে দেননি তিনি।
দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে নিজের পুরনো স্বপ্নকে নতুন করে ছুঁতে প্রতিযোগিতার ট্র্যাকে ফিরে আসেন সাবিনা। কেরলের স্টেট মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় ৫৫ বছরের বেশি বয়সিদের বিভাগে বাধা দৌড়ে অংশ নেন তিনি। ধর্মীয় পোশাক পরেই, খালি পায়ে দৌড়ে একের পর এক বাধা অতিক্রম করেন। আর শেষ পর্যন্ত নিজের বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে সাফল্যের মুকুট ছিনিয়ে নেন তিনি।
সাবিনার এই কৃতিত্ব কেবল একটি প্রতিযোগিতায় জয় নয়, বরং নিজের স্বপ্নকে নতুন করে বাঁচিয়ে তোলার এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ। জীবনের নানা দায়িত্বে অনেক সময় আমাদের পছন্দের কাজ পিছিয়ে পড়ে। কিন্তু সুযোগ এলে আবারও যে নতুন করে শুরু করা যায়, তা দেখিয়ে দিলেন তিনি।
স্বপ্নের কোনও নির্দিষ্ট বয়স নেই, আর চেষ্টা করার ইচ্ছা থাকলে নতুন করে শুরু করার দরজাও কখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় না। সিস্টার সাবিনার সাফল্য সেই বার্তাই পৌঁছে দিল আরও অনেকের কাছে।

