নাগাড়ে টানা বৃষ্টির জেরে শোচনীয় এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সপ্তগ্রাম বিধানসভার অন্তর্গত মগরা দুই নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের গজঘণ্টা মালিকপাড়ায়। মৃতদের নাম গৌর মালিক (৫৭) এবং তাঁর মেয়ে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় নেমে এসেছে চরম শোকের ছায়ায়। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন প্রতিবেশীরা।
স্থানীয় সূত্রের খবর, পেশায় সবজি বিক্রেতা গৌর মালিক বেশ কিছু দিন ধরেই চরম অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। সম্প্রতি সরকারের ‘আবাস যোজনা’র প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ায় নতুন পাকা ঘর তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। আশা ছিল, শীঘ্রই ঘামের উপার্জনে আর সরকারি সাহায্যে মাথার ওপর এক চিলতে পাকা ছাদ উঠবে। কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণের আগেই ঘটল চরম বিপত্তি। পুরনো মাটির ঘরটিতেই মেয়েকে নিয়ে রাতে ঘুমিয়ে ছিলেন গৌরবাবু।
গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে মাটির দেয়ালটি আগে থেকেই জল পেয়ে বিপজ্জনক হয়ে পড়েছিল। বৃহস্পতিবার মাঝরাতে আচমকাই সম্পূর্ণ মাটির বাড়িটি হুড়মুড় করে ধসে পড়ে ঘুমন্ত বাবা-মেয়ের ওপর। বিকট শব্দ শুনে ঘুম ভেঙে যায় পাড়া-প্রতিবেশীদের। বিপদ বুঝে তড়িঘড়ি ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরাই নিজেদের উদ্যোগে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করেন। তবে ততক্ষণে সব শেষ! মাটির নিচ থেকে বাবা ও মেয়েকে নিথর অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মগরা থানার পুলিশ। মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘর পাকা করার আগেই যে এভাবে জলজ্যান্ত দুটো প্রাণ অকালে ঝরে যাবে, তা মেনে নিতে পারছেন না গজঘণ্টা মালিকপাড়ার অধিবাসীরা। গোটা গ্রাম এখন নিস্তব্ধ, স্তব্ধ শোক।

