• Fri. Sep 4th, 2026

টানা বৃষ্টিতে দুর্বল হয়ে পড়েছিল মাটির বাড়ির দেওয়াল। শেষমেশ আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল বাড়ির একাংশ। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেও এক রাতের মধ্যেই মাথার উপর ছাদ হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়ল গোঘাটের কামচে এলাকার পরেশ সাঁতরার পরিবার। বর্তমানে কামচে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ঘরে আশ্রয় নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাঁদের।

দক্ষিণবঙ্গজুড়ে কয়েকদিন ধরে লাগাতার বৃষ্টির জেরে বাড়িটির মাটির দেওয়াল ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়েছিল। গত পরশু রাতে আচমকাই বিকট শব্দে বাড়ির একাংশ ভেঙে পড়ে। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে কোনওরকমে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন পরেশবাবু ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। ফলে বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পান তাঁরা।

বাড়ি ভেঙে পড়ার পর রাতেই মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজতে বাধ্য হয়ে রাস্তার ধারের একটি মন্দিরে আশ্রয় নেয় পরিবারটি। পরে তাঁদের কামচে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ঘরে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। ঘরবাড়ি হারিয়ে সামান্য কয়েকটি জিনিসপত্র নিয়ে কার্যত খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি পরিবারটি।

বিষয়টি জানতে পেরে বুধবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছন গোঘাটের বিধায়ক প্রশান্ত দিগার ও স্থানীয় নেতৃত্বরা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজ নেন তিনি। এরপর পরেশ সাঁতরার হাতে তুলে দেন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও আর্থিক সাহায্য। বিধায়কের এই উদ্যোগে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে পরিবারটির মুখে।

শুধু পরেশ সাঁতরার পরিবারই নয়, এলাকার আরও কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িতেও পৌঁছন বিধায়ক। ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ত্রিপল ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দ্রুত প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার সার্ভে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন তিনি।

টানা বৃষ্টিতে ঘরবাড়ি হারিয়ে এখন সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি। প্রশাসনিক সাহায্য কত দ্রুত তাঁদের কাছে পৌঁছয় এবং মাথার উপর ফের পাকা ছাদের ব্যবস্থা হয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে এলাকার বাসিন্দারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

হোম পেজ
এক নজরে
দেশ
খেলা
বিনোদন