পুজোর আনন্দে মাতোয়ারা গ্রামবাসী, বাড়িতে বাড়িতে ভোগের আয়োজন, নিরঞ্জনেও উৎসবের আমেজ
শারদোৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই বাংলার ঘরে ঘরে শুরু হয় ধন-সম্পদ, সুখ-সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের দেবী মা লক্ষ্মীর আরাধনা। আর সেই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোকে কেন্দ্র করেই উৎসবের আনন্দে মেতে উঠল খণ্ডঘোষ থানার অন্তর্গত কৃষ্ণপুর কুকুরা গ্রাম।
মহা ধুমধামের সঙ্গে পালিত হলো এই গ্রামের কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। পুজোকে কেন্দ্র করে গোটা গ্রামজুড়ে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। দেবী লক্ষ্মীর প্রতিমা দর্শন করতে ভিড় জমান গ্রামের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। ছোট থেকে বড়, সকলের মধ্যেই দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা ও আনন্দ।
কেউ আসেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে, কেউ আবার প্রতিবেশীদের সঙ্গে দল বেঁধে মা লক্ষ্মীর দর্শন করতে। পুজোর আনন্দে একত্রিত হন গ্রামের মানুষ। ভক্তি, বিশ্বাস ও আনন্দের মধ্য দিয়ে পালিত হয় এই বিশেষ উৎসব।
একসময়ের পারিবারিক পুজো, আজ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা গ্রামে
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, একসময় কৃষ্ণপুর কুকুরা গ্রামে হাতে গোনা কয়েকটি বাড়িতেই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর প্রচলন ছিল। বিশেষ করে কর্মকার বাড়িতে এই পুজোকে ঘিরে ছিল পারিবারিক ঐতিহ্য ও দীর্ঘদিনের রীতি।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই পুজোর প্রচলন ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামের অন্যান্য বাড়িতেও। বর্তমানে গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে মহা ধুমধামের সঙ্গে মা লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়। পুরোনো ঐতিহ্যকে ধরে রেখে নতুন প্রজন্মও এই পুজোর আনন্দে শামিল হচ্ছে।
একসময়ের সীমিত পরিসরের পুজো কীভাবে আজ গ্রামের মানুষের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে, তা সত্যিই দেখার মতো। এই পুজো শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং গ্রামবাসীদের একত্রিত হওয়ার এবং নিজেদের ঐতিহ্যকে নতুন করে উদ্যাপন করার একটি বিশেষ উপলক্ষ।
কিছু কিছু বাড়িতে বিশেষ ভোগের আয়োজন
কৃষ্ণপুর কুকুরা গ্রামের কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর অন্যতম আকর্ষণ হলো কয়েকটি বাড়িতে বিশেষ ভোগের আয়োজন। মা লক্ষ্মীর পুজোকে কেন্দ্র করে ভক্তিভরে ভোগ প্রস্তুত করা হয় এবং দেবীর উদ্দেশ্যে তা নিবেদন করা হয়।
বাড়ির সদস্যদের মধ্যে থাকে পুজোর প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ততা। পরিবারের সকলে মিলে পুজোর বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণ করেন। ভোগের আয়োজনকে ঘিরে বাড়িতে বাড়িতে তৈরি হয় এক আনন্দময় পরিবেশ।
পুজোর এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে বাঙালির পারিবারিক ঐতিহ্য, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির ছবি। কোথাও পুজোর মন্ত্রোচ্চারণ, কোথাও ভোগ নিবেদনের প্রস্তুতি, আবার কোথাও পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো হয়ে ওঠে এক আন্তরিক উৎসব।
গ্রামবাসীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে লক্ষ্মীপুজো
কৃষ্ণপুর কুকুরা গ্রামের এই পুজোকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীদের মধ্যে দেখা যায় বিশেষ উৎসাহ। গ্রামের মানুষ একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন এবং পুজোর বিভিন্ন আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন।
উৎসবের এই পরিবেশে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি গুরুত্ব পায় সামাজিক বন্ধনও। গ্রামের প্রবীণদের কাছে রয়েছে পুরোনো দিনের নানা স্মৃতি, আর নতুন প্রজন্মের কাছে রয়েছে এই ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আনন্দ।
বছরের পর বছর ধরে এই পুজোর মধ্য দিয়ে গ্রামের মানুষের মধ্যে যে সম্পর্ক ও ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে, তা আজও ধরে রাখার চেষ্টা করছেন গ্রামবাসীরা।
শুনে নেব স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখে পুজোর ইতিহাস
কীভাবে শুরু হয়েছিল কৃষ্ণপুর কুকুরা গ্রামের কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো? আগের দিনের পুজোর সঙ্গে বর্তমান সময়ের পুজোর কী কী পার্থক্য রয়েছে? কীভাবেই বা গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে এই পুজোর প্রচলন ছড়িয়ে পড়ল?
এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর জানতে কথা বলব স্থানীয় বাসিন্দা রাধেশ্যাম কর্মকারের সঙ্গে। তাঁর কাছ থেকে জানার চেষ্টা করব পুজোর অতীত ইতিহাস, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং পুরোনো দিনের নানা স্মৃতির কথা।

